জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ :

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত গণশুনানি বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদের মুখে পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

গণশুনানিকে ঘিরে সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হন। তারা “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে আমরণ অনশন করবো”, “বর্গকিলোমিটারের অজুহাতে ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না”, “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে মানুষ কষ্ট পাবে”, “নাগরিক সেবায় চরম ভোগান্তি হবে”, “আমরা ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না”—এমন নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ জানান।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, কোনো অবস্থাতেই হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নকে দুই ভাগ করা যাবে না। তারা বলেন, ইউনিয়ন বিভক্তি হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে এবং নাগরিক সেবা পেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ইউনিয়ন বিভক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলে তারা আমরণ অনশনে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন বিভক্তিকরণের লক্ষ্যে টেকনাফের বিভিন্ন ইউনিয়নে সীমানা নির্ধারণ কমিটির বৈঠক ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সেগুলোর বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা করা হয়নি।

এর আগে একই দিন সকালে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত গণশুনানি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই ওই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মেম্বার পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম অপি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হ্নীলার গণশুনানি একেবারেই চুপিসারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমার মতো অনেক রাজনৈতিক নেতাকেও সেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।”

বিকেল ৩টায় হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে গণশুনানি শুরু হওয়ার আগেই বিক্ষোভকারীরা পরিষদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হলেও গণশুনানি শুরু হতেই শত শত মানুষ প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং ইউনিয়ন বিভক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারসহ কয়েকজন আহত হন। এ সময় সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা হলরুমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্ধার করেন।

এসআই আনোয়ার হোসাইন জানান, ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারসহ কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, “জনগণের জন্যই ইউনিয়ন পরিষদ। হোয়াইক্যংয়ের অধিকাংশ মানুষ ইউনিয়ন বিভক্তির বিপক্ষে। ইউনিয়ন বিভক্তি হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।”

তবে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, গণশুনানি শুরুর আগেই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পাঠিয়ে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ইউনিয়ন বিভক্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টেকনাফজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও বিক্ষোভকারীরা গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থ নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে ইউনিয়ন বিভক্তির উদ্যোগ থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।